আলহাজ্জ মাওলানা শাহীনুর আলম ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ এর মেগা ফাইনাল খেলাটি আজ (রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫) বিকেলে খাসশুড়িবেড় স্কুল মাঠে এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ এই খেলায় অংশগ্রহণ করে নাটুয়ারপাড়া ফুটবল একাদশ এবং মাজনাবাড়ী ফুটবল একাদশ।
নাটুয়ারপাড়া ফুটবল একাদশ ১-০ গোলের ব্যবধানে মাজনাবাড়ী ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজয়ী দলকে দেওয়া হয় একটি বড় ফ্রিজ এবং রানার্স-আপ দলকে দেওয়া হয় একটি মাঝারি ফ্রিজ।
খেলা শেষে চরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ: “যমুনা উপজেলা চাই”
জমকালো ফাইনাল ম্যাচের সমাপ্তির পর পুরো চরাঞ্চলে কেবল একটিই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে থাকে “যমুনা উপজেলা চাই”। এ দাবি এখন আর কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি যমুনার চরের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের বঞ্চনা ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তির প্রাণের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, মূল ভূখণ্ড থেকে নদী দ্বারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখানকার জীবনযাত্রা ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে।
যোগাযোগের চরম ভোগান্তি: এলাকার সঙ্গে জেলা বা উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নৌকা নির্ভর। শুষ্ক মৌসুমেও সঠিক সময়ে নৌকা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়, ফলে প্রশাসনিক কাজ বা জরুরি প্রয়োজনে শহরে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।
চিকিৎসাসেবার অভাব: গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য শহরে আসতে হয়, কিন্তু নৌপথের এই দুস্তরতা এবং সঠিক সময়ে যানবাহন না পাওয়ায় অনেক সময়ই রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়।
শিক্ষা ও প্রশাসনিক বঞ্চনা: ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক সেবা সব ক্ষেত্রেই চরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার। এলাকার যুবসমাজ তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, নতুন উপজেলা গঠিত হলে এখানে ভালো মাঠ তৈরি হবে এবং নিয়মিত খেলার আয়োজন করা যাবে। তাদের কথায়, “যদি আমরা খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ পাই, তবে যুবকরা নেশা থেকে দূরে থাকবে এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে মনোযোগ দেবে।” উপস্থিত জনতা স্লোগান দিতে থাকেন: “এত মানুষের একটাই দাবি, যমুনা উপজেলা চাই! ভালো মাঠ আর খেলাধুলার সুযোগ চাই!”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, সরকার দ্রুত যেন এই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতা দূর করে “যমুনা উপজেলা” বাস্তবায়ন করে এবং চরের মানুষের জন্য উন্নত নাগরিক সুবিধা, সুচিকিৎসা এবং জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।